রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার—এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সাপ্তাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন এবং সচেতনতামূলক গ্রাফিতি সংযোজন করে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কোরিয়াভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মাধ্যমে ‘জিরো ওয়েস্ট’ লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৪০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে মোট ৮টি প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে তিনি ২টি প্রশ্ন ও সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন। গৃহীত প্রধান উদ্যোগসমূহ: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়ক বিভাজক, দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়ন, আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা, মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গায় সবুজায়ন
পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগ: বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ, দূষণের উৎস চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান, সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা এবং দূষণকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
জলাশয় ও নদী রক্ষা: শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক, ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন সম্পন্ন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীর দূষণের উৎস নির্ধারণ, ঢাকার ১৯টি খালের দূষণ উৎস চিহ্নিত।
বনায়ন ও সবুজায়ন: বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ইতোমধ্যে ৪১,৫৬৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ, মাটি আবৃত করতে লতা, গুল্ম ও ঘাসের ব্যবহার, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় ব্যাপক সবুজায়ন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।