ছোটোখাটো বিষয়ও ভুলে যাচ্ছেন? মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এসব খান

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

করোনা মহামারী বিদায় নিলেও এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে অনেকের শরীরে। নানা স্বাস্থ্যজটিলতার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ার অভিযোগও বাড়ছে। ছোট-বড় সবার মধ্যেই দেখা দিচ্ছে এমন সমস্যা—কারও নাম মনে না পড়া, জিনিসপত্র কোথায় রাখা হয়েছে তা ভুলে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার রয়েছে, যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এগুলো স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে, পাশাপাশি ক্লান্তি কমায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু উপকারী খাবার সম্পর্কে—

তেলযুক্ত মাছ

উচ্চমাত্রার ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছে থাকা ইপিএ ও ডিএইচএ মস্তিষ্কের বিকাশ ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। স্যামন, সার্ডিন বা টুনার পাশাপাশি দেশীয় মাছ যেমন ইলিশ, রূপচাঁদা, কাতলা ও রুইতেও রয়েছে উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড।

ব্লুবেরি

অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েডসমৃদ্ধ ব্লুবেরি মস্তিষ্কের কোষ সুরক্ষায় সহায়তা করে। গাঢ় রঙের ফল সাধারণত মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

ডিম

ডিমের কুসুম কোলিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস, যা স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়ক। এছাড়া এতে রয়েছে বি-ভিটামিন ও প্রোটিন, যা মেজাজ ভালো রাখতে এবং মস্তিষ্কের ক্ষয় প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

বাদাম ও বীজ

আখরোট, কাঠবাদাম, কুমড়োর বীজ ও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক। এসব উপাদান মস্তিষ্কের কোষ সুরক্ষা দেয়, ক্লান্তি কমায় এবং স্নায়ুর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

সবুজ শাকসবজি

পালংশাক, সর্ষে শাক, পুঁইশাক, হেলেঞ্চাসহ বিভিন্ন সবুজ শাকপাতায় রয়েছে ফোলেট, ভিটামিন কে, লুটেইন ও বিটা-ক্যারোটিন। এগুলো মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, অক্সিজেন সরবরাহ উন্নত করে এবং মানসিক ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে।

দানাশস্য

মস্তিষ্কের প্রধান জ্বালানি গ্লুকোজ। তাই খাদ্যতালিকায় রাখুন ব্রাউন রাইস, কিনোয়া, ওটস, আটার রুটি কিংবা জোয়ার-রাগির মতো পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার। এগুলো ধীরে শক্তি জোগায় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ডার্ক চকোলেট

প্রতিদিন অল্প পরিমাণে (কমপক্ষে ৭০ শতাংশ কোকোসমৃদ্ধ) ডার্ক চকোলেট খেলে মন ভালো থাকে এবং মস্তিষ্ক সতেজ থাকে। এতে থাকা ক্যাফিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড মানসিক ক্লান্তি কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক।

সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও সমানভাবে জরুরি।

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD