সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের দলের জন্য ‘ছদ্মবেশী উপহার’?

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিরা তার ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্কনীতি বাতিল ঘোষণা করেছেন। এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে এটি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি-র জন্য লাভজনকও হতে পারে।

কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা প্রকাশ্যে রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে সরাসরি কিছু না বললেও আড়ালে সন্তুষ্ট—এমন ধারণাও জোরালো। কারণ, এ সিদ্ধান্ত একদিকে ট্রাম্পের একক ক্ষমতা প্রয়োগে সীমা টেনেছে, অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করা নীতি থেকে তাকে সরে আসার সুযোগ দিয়েছে।

আদালতের এই রায় এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। মার্কিন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি বার্ষিক হারে ১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসে—যা ২০১৬ সালের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির হারও দুর্বল ছিল এবং মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

যদিও শুল্ক একমাত্র কারণ নয়, তবে শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে—এমন ধারণা রয়েছে। জনমত জরিপেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে।

জরিপ সংস্থা নেট সিলভারের তথ্যমতে, গত এপ্রিল থেকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার রেটিং প্লাস-৬ থেকে কমে মাইনাস-১২-এ নেমেছে। সিএনএন-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এই শুল্কনীতির বিপক্ষে; এর মধ্যে ২৫ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকও রয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের ফলে অন্য আইনের অধীনে শুল্ক আরোপে তার ক্ষমতা আরও ‘শক্তিশালী’ হয়েছে। তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা পরে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার কথাও বলেন।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ধারায় একাধিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১২২ ধারায় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যায় এবং তা ১৫০ দিনের বেশি বহাল রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলেই কেবল এই ধারা প্রয়োগ সম্ভব।

এর আগে ট্রাম্প জরুরি ক্ষমতার আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা তাকে দ্রুত ও ব্যাপক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এখন তাকে বিকল্প আইনি কাঠামো অনুসরণ করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং কংগ্রেস-নির্ভর।

রায়ে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এককভাবে অর্থনৈতিক জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে সীমাহীন শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এতে ট্রাম্পের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দরকষাকষির ক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিদেশি অংশীদাররাও এখন জানেন, তার সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেস ও আদালতের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

রিপাবলিকান পার্টির অনেক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে শুল্কনীতিকে নীরবে সমর্থন করলেও দলটির ঐতিহ্যগত অবস্থান মুক্তবাজার ও মুক্তবাণিজ্যের পক্ষে। সুপ্রিম কোর্টের এ রায় তাদের জন্য অবস্থান পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছর হওয়ায় অর্থনৈতিক ইস্যু বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। শুল্কনীতির কারণে মূল্যস্ফীতি বা প্রবৃদ্ধিতে চাপ অব্যাহত থাকলে তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। ফলে অনেক রিপাবলিকান মনে করতে পারেন, ট্রাম্পকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল—এখন নতুন পথে হাঁটার সময়।

তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিবেচনায় তিনি সহজে পিছু হটবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবুও সুপ্রিম কোর্টের রায় তাকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একই সঙ্গে, রিপাবলিকান পার্টির জন্যও নতুন হিসাব-নিকাশের দুয়ার খুলে দিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD