যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাধার মুখে পড়ে মূল্য কমিয়ে ইউরোপের বাজার দখলের চেষ্টা করছে চীন। এতে প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতার চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপর। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতি তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ইউরোতে। একই সময়ে বাজারটিতে চীনের রপ্তানি হয়েছে ২৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ইউরো, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে তুরস্কের রপ্তানি ১৩ শতাংশ কমলেও দ্বিতীয় সারির রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ৮ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং কলম্বিয়ার ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্য কমিয়ে বাজার দখলের প্রতিযোগিতা
ইউরোস্ট্যাট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট পোশাক আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ১০ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো। তবে একই সময়ে পণ্যের পরিমাণ ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়লেও গড় মূল্য কমেছে প্রায় ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ রপ্তানি ধরে রাখতে ইউনিট মূল্য ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমিয়েছে। তবে বাজার দখলের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি মূল্য কমিয়েছে চীন, যেখানে দেশটি ইউনিট প্রতি ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমিয়েছে।
উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের পক্ষে পোশাকের দাম আরও কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন ও বন্দর সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় এবং সরবরাহ সময় বা লিড টাইম বাড়ছে।
বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদ কমানো এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে বিজেএমইএ-এর সাবেক পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশ এখনো দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাজার ধরে রেখেছে। তবে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর শ্রম ও বাণিজ্য সংক্রান্ত নতুন শর্ত শিল্পকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
তিনি জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে উৎপাদন সময় বাড়ছে। ফলে উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। ক্রেতারা দ্রুত সরবরাহ প্রত্যাশা করলেও অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় এখন থেকেই উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।





