রাজধানীর বাজারে ডিম, চাল ও সবজির দাম ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
এ মাসের শুরুতে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকায়। সহজ প্রোটিনের উৎস এই খাদ্যপণ্যের চড়া দাম নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চালের দামও কয়েক সপ্তাহ ধরে উচ্চমান বজায় রেখেছে। মোটা চালের দাম ৬০ টাকার বেশি, সাধারণ চাল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে এবং ভালো মানের ব্র্যান্ডের চাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারও চড়া। প্রতি কেজি ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, বরবটি ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বেগুনের দাম বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, যেখানে পূর্বে দাম কম ছিল। আলু ও পেঁপে এখনও ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে। ঢ্যাঁড়স, পটল ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া হাতে গোনা কয়েকটি সবজির দাম ৬০-৮০ টাকার মধ্যে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামের এই ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বড় পাইকারি বাজারে কিছুটা সস্তা হলেও, শুক্রবার সবজির দাম সামান্য বেড়ে যায়।
পেঁয়াজের দামও দুই সপ্তাহে বেড়েছে। ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৮০-৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে সরবরাহে বিঘ্ন পড়ায় দাম বেড়েছে। পাবনা ও ফরিদপুরের উৎপাদন এলাকায় প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম প্রায় ৪০০ টাকা বেড়ে গেছে।
মসলা ও অন্যান্য উপকরণের দামও ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি ১০০ গ্রাম এলাচের দাম আগে ৪০০ টাকা থাকলেও এখন সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, এবং প্রতি কেজি আদার দাম ১৮০ থেকে বেড়ে ২২০-২৫০ টাকা হয়েছে।
দর বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরবরাহ সমস্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলতে পারে।





