দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা যেন এক মহামারির রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্রে উঠে আসছে মৃত্যুর খবর, আর হাসপাতালে ভরে যাচ্ছে আহতদের আর্তনাদে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৪৮০ জন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই মারা গেছেন আরও ২ হাজার ৯৪৩ জন। আহতের সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দুর্ঘটনার বড় অংশই ঘটছে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার কারণে। শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে মহাসড়ক— সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এসব তিনচাকার যান। তাদের বেপরোয়া গতির ফলে ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও অনেক রোগীকে আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। মাথায় গুরুতর আঘাত, ওপেন ফ্র্যাকচার এবং চিরস্থায়ী অক্ষমতার ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে নতুন নতুন রোগীর ভিড়, আর তাদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেই সড়ক দুর্ঘটনায় চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১২ জন। এর মধ্যে ২৭১ জন ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় এবং ১৪১ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সরকারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে। এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ অকালে প্রাণ হারাবেন। জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে তারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশার চলাচল সীমিত করা, নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
সম্প্রতি রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে উপচে পড়া ভিড়। কেউ স্ট্রেচারে, কেউ হুইলচেয়ারে, কেউবা স্বজনের কাঁধে ভর দিয়ে চিকিৎসার জন্য আসছেন। স্বজনেরা ছুটছেন ওষুধ কিনতে বা ডাক্তার ডাকার জন্য। করিডরে ভেসে আসছে আহত রোগীদের আর্তচিৎকার। চিকিৎসক-নার্সরা নিরলস চেষ্টা চালালেও রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।