শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য একটি সমাধি ঘিরে অসংখ্য বিশ্বাসের গল্প সু চির সাজা কমালেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং হরমুজ প্রণালি সচল করতে প্যারিসে বিশ্ব সম্মেলন: ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর আশকোনা হজক্যাম্প: রাতে উড়ছে প্রথম ফ্লাইট সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র নিম্নমানের কিটে ভুল রিপোর্ট, বাড়ছে হেপাটাইটিস-এইচআইভি ছড়ানোর শঙ্কা দেশের তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেটে কী বেশি খোঁজে? চীন সফরে বিএনপির প্রতিনিধিদল, বিমানবন্দরে বিদায়ী সংবর্ধনা

নিম্নচাপ ও অমাবস্যার যুগল আঘাতে লণ্ডভণ্ড উপকূল

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শুক্রবার নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর উপকূলে নেমে আসে দুর্যোগের ছায়া। অমাবস্যার জোয়ারের সঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাস। এতে উপকূলীয় অন্তত ১৬টি জেলার বহু নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে নৌযোগাযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতভিটা, মাছের ঘের ও ফসলি জমি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার রাতভর উপকূলের ওপর দিয়ে বইেছে তীব্র দমকা হাওয়া। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ৩ ফুট বেশি। রাত গভীর হতেই নিম্নচাপটি গতি পরিবর্তন করে ভারতের দিকে সরে যায়। বর্তমানে এটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খন্ডে অবস্থান করছে।
বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর বহু এলাকা পানির নিচে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় শুক্রবার দিনের জোয়ারেই নদ-নদীর পানি বেড়ে একাধিক জনপদ প্লাবিত হয়। স্থানীয়রা জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট উঁচু জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘর, বাজার ও খামার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ১১টি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে ফেনীর মুহুরি ও সেলোনিয়া নদীর পানি আগামী তিন দিনের মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীগুলোর পানির উচ্চতাও ক্রমশ বাড়ছে। হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরি, রহমতখালি খালসহ বিভিন্ন জলপথে সতর্কসীমায় পৌঁছে গেছে পানির গতি।
আবহাওয়া অফিস শনিবার তিন নম্বর সতর্ক সংকেত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা জারি রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে ভারি বৃষ্টি হলেও দেশের উত্তরাঞ্চলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে সিলেট বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বাড়ছে। অন্যদিকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীতে পানি কমছে, যা ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অমাবস্যা ও নিম্নচাপের সম্মিলিত প্রভাব আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। নদীর পানি ও উপকূলীয় জোয়ারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রশাসনকে দুর্যোগ প্রস্তুতির পাশাপাশি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলার বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ—বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD