সুপারহিরোর মতো দাঁড়িয়ে। পা ছড়িয়ে। হাত কোমরে রেখে। বুক ফুলিয়ে কেউ যদি নিজেকে উপস্থাপন করে, তবে কি তিনি সত্যিই আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন?
এটি ‘পাওয়ার পোজিং’ নামে পরিচিত। একটি মনোবৈজ্ঞানিক ধারণা। যেখানে বলা হয়—শরীরের ভঙ্গি বদলালে বদলাতে পারে মন ও কর্মক্ষমতা।
২০১০-এর দশকে এই ধারণাটি দারুণ জনপ্রিয় হয়। কিছু গবেষণায় বলা হয়, এমন ভঙ্গিতে দাঁড়ালে বাড়ে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা। বাড়ে প্রেরণাও।
তবে পরবর্তী গবেষণা এই দাবির ওপর সন্দেহ জাগায়। ‘হাউ কনফিডেন্স ওয়ার্কস’ বইয়ের লেখক ইয়ান রবার্টসন বলেন, মেটা-বিশ্লেষণগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি পাওয়ার পোজের নির্ভরযোগ্য ফল।
তবে, নতুন কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য। শরীরকে বড় করে দাঁড়ালে আত্মবিশ্বাস বাড়ে কি না—সেই প্রমাণ দুর্বল। কিন্তু শরীরকে ছোট করে ফেললে, যেমন কুঁজো হয়ে বসলে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়। প্রভাব পড়ে কর্মক্ষমতাতেও।
রবার্টসনের মতে, গুটিসুটি মেরে বসলে মন খারাপ থাকে। কঠিন সমস্যায় ধৈর্যও কমে যায়। আত্মবিশ্বাসও তলানিতে ঠেকে।
এটি মনোবিজ্ঞানের ‘এম্বডিমেন্ট’ তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই তত্ত্ব বলে, শরীরের অভিব্যক্তি ও আবেগের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
আমরা রেগে গেলে শরীর প্রসারিত হয়। ভয় পেলে সংকুচিত হয়। এই প্রতিক্রিয়াগুলো শুধু প্রকাশ নয়। এগুলো আবার মস্তিষ্কে ফিরে গিয়ে আবেগকে আরও জোরালো করে তোলে।
রবার্টসন বলেন, “আবেগের সার্কিট আর শারীরিক অভিব্যক্তির সার্কিট একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। তাই কোনো আবেগের ভঙ্গি নকল করলেও, সেই আবেগ ধীরে ধীরে অনুভব হতে পারে।”
সামরিক প্রশিক্ষণ, শিষ্টাচার শিক্ষা—সবখানেই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। কারণ, এই অভ্যাস মানসিক শক্তি জোগায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাওয়ার পোজ হয়তো সরাসরি আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না। কিন্তু নিজেকে ছোট করে না রাখার অভ্যাস শক্তি জোগাতে পারে কঠিন মুহূর্তে।
তাই, পরের বার কোনো সাক্ষাৎকার বা উপস্থাপনার আগে—একটু বুক ফুলিয়ে, সোজা হয়ে দাঁড়ান। হয়তো প্রয়োজনের সেই সামান্য সাহসটা সেখান থেকেই পাবেন।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান