দুই বছর বয়সেই বিশ্বরেকর্ড, মেনসার সর্ব কনিষ্ঠ পুরুষ সদস্য এখন জোসেফ

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫
জোসেফ হ্যারিস-বার্টিল

একটা শিশুর প্রথম কথা বলার বয়স সাধারণত এক থেকে দেড় বছর। বই পড়তে শেখে আরও পরে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের দুই বছরের শিশু জোসেফ হ্যারিস-বার্টিল যেন এই স্বাভাবিকতার অনেক আগেই জীবন শুরু করেছে ব্যতিক্রমী এক অধ্যায়ে। মাত্র ২ বছর ১৮২ দিন বয়সে সে এমন এক জায়গায় জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে অনেকে এক জীবন ব্যয় করেন—মেনসা।

এই গর্বিত অর্জনের মধ্য দিয়ে জোসেফ এখন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী পুরুষ হিসেবে মেনসার সদস্য, এবং এ সাফল্য তার নাম তুলে দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ।

শিশুকালেই প্রতিভার ঝলক

জোসেফের প্রতিভার গল্প শুরু হয় জন্মলগ্ন থেকেই। জন্মের মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পর সে প্রথমবার গড়াগড়ি খেতে শেখে। সাত মাসে সে বলে ফেলে প্রথম শব্দ। এই বয়সেই তার চোখে-মুখে ছিল কৌতূহলের দীপ্তি। আর মাত্র ২১ মাস বয়সে সে পুরোপুরি বই aloud পড়ে ফেলতে পারত—যা বহু শিশু তখনো উচ্চারণ শেখার চেষ্টা করছে।

তার মা ড. রোজ এবং বাবা ডেভিড হ্যারিস-বার্টিল—দুজনেই একাডেমিক পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারা বলছেন, “জন্ম থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম, জোসেফ ভিন্ন কিছু। সে প্রতিনিয়ত আমাদের চমকে দিচ্ছিল।”

মেনসার পথে যাত্রা

বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিভাদের সংগঠন মেনসা-তে যোগ দিতে হলে কমপক্ষে ১৩২ আইকিউ প্রয়োজন হয়, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশের শীর্ষে অবস্থানকারীদের যোগ্য করে তোলে। জোসেফ সেই মানদণ্ড অতিক্রম করেছে অনায়াসেই।

সে একটানা ১০ মিনিট বই পড়ে, ৫টি ভাষায় ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারে, এমনকি ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত গুনে আবার উল্টো দিকেও ফিরিয়ে দিতে পারে। এসব দেখে তার মা-বাবা সিদ্ধান্ত নেন, তাকে আরও সুযোগ ও সহায়তার মধ্যে আনতে মেনসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

রোজ বলেন, “আমরা অনলাইনে দেখেছিলাম যে মেনসায় শিশুদের জন্যও প্রোগ্রাম আছে। ওর মত প্রতিভাবান শিশুদের জন্য এটা হতে পারে এক দারুণ প্ল্যাটফর্ম। শুধু প্রতিভার স্বীকৃতি নয়, এটা ওর শেখার আগ্রহকে উৎসাহও দেবে।”

শেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ, সহমর্মী মানসিকতা

জোসেফ কেবল গণিত, ভাষা বা বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সে এখন মর্স কোড, গ্রীক অক্ষরমালা ও মৌল উপাদানের পর্যায় সারণি শিখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। পাশাপাশি সে অত্যন্ত সামাজিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আবেগপ্রবণ একটি শিশু। খেলা করে, বন্ধুদের আলিঙ্গন করে, খেলনা ভাগ করে নেয়—একটি পরিপূর্ণ শৈশব তার ভেতরে গড়ে উঠছে।

“সে খুবই কৌতূহলী, আত্মবিশ্বাসী ও স্নেহপরায়ণ,” বললেন রোজ। “জটিল কিছু পেলে ওর আনন্দ আরও বেড়ে যায়—চেস খেলা হোক বা নতুন শব্দ শেখা, সবকিছুর মধ্যেই সে আনন্দ খুঁজে পায়।”

পড়াশোনার বাইরে জোসেফের রঙিন জগৎ

পড়ালেখার বাইরেও জোসেফের আগ্রহের পরিধি বিস্তৃত। সে পিয়ানো শিখছে, বিভিন্ন ভাষা শেখার চেষ্টা করছে, রান্না করতে ভালোবাসে, কাগজ দিয়ে উড়োজাহাজ বানায়, এমনকি অঙ্কের সমস্যাও সমাধান করে। এসবই তার ভারসাম্যপূর্ণ মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের প্রমাণ।

জোসেফের এই বিশেষ প্রতিভা বুঝতে পেরে তার মা-বাবা মেনসার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে সে উপযুক্ত সহায়তা ও সমমনা শিশুদের সংস্পর্শে আসতে পারে।

রোজ বলেন, “আমরা অনলাইনে খুঁজে দেখেছিলাম এবং মেনসার শিশু সদস্যদের জন্য থাকা বিশেষ প্রোগ্রামগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। জোসেফের শেখার আগ্রহ ও সম্ভাবনার জায়গাগুলো আরও বিকশিত করার জন্য আমরা এটিকে একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেছি।”

জোসেফ কেবল বই, অঙ্ক বা ভাষা নিয়েই ব্যস্ত নয়। সে চমৎকারভাবে সামাজিক ও আবেগনির্ভর একটি শিশু। বন্ধুদের সঙ্গে খেলে, খেলনা ভাগ করে নেয়, ভালোবাসা প্রকাশ করে। তার মা বলেন, “সে খুবই মিষ্টি, আত্মবিশ্বাসী ও চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে। কঠিন কিছু দেখলে সে খুশি হয়। শিখতে ভালোবাসে।”

জোসেফের আরও একাধিক আগ্রহও রয়েছে—সে মর্স কোড শিখছে, গ্রীক অক্ষরমালা, পর্যায় সারণি সম্পর্কে আগ্রহী, এমনকি পিয়ানো শেখাও শুরু করেছে। সেই সঙ্গে রান্না, কাগজের বিমান বানানো, অঙ্ক কষা এবং খেলনা সংগ্রহ তার প্রতিদিনের আনন্দ।

প্রতিভার যত্নে এক দায়িত্বশীল পরিবার

এই বয়সে শিশুদের সাধারণত খেলাধুলা, কার্টুন আর মজার দুনিয়াতেই সময় কাটে। কিন্তু জোসেফের প্রতিটি দিন যেন এক নতুন আবিষ্কারের গল্প। তার বাবা-মা চেষ্টা করছেন এই প্রতিভার যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে। তার জন্য তারা খুঁজে নিচ্ছেন এমন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জোসেফ নিজের মত করে বাড়তে পারে, শিখতে পারে, ভাবতে পারে।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD