ইরানের ওপর সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ফোনালাপে তিনি ইরানের ওপর হামলার বিরোধিতা করে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, তেহরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার বেইজিং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র হত্যাকাণ্ডকে ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে চীন।
সিনহুয়ার তথ্যমতে, আলাপকালে ওয়াং ই বলেন, চীন ‘সংলাপ ও পরামর্শের’ মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে। তিনি উল্লেখ করেন, “সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্পষ্ট অগ্রগতি করছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গুলিবর্ষণের কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “শক্তি প্রয়োগ কখনও প্রকৃত সমাধান আনতে পারে না; বরং এটি নতুন সমস্যা ও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে।” সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ৭৮৭ জন নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আক্রান্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুলসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো রয়েছে। মেয়েদের একটি স্কুলে হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১০ জন নিহত ও প্রায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ইরান মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে।