বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাৎক্ষণিক সংকট না থাকলেও ইরানে যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, এ নৌপথের দুই প্রান্তে শত শত তেল ও এলএনজিবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এদিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান QatarEnergy যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির কারণে এলএনজি উৎপাদন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশটির এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জ্বালানির উৎস ও সরবরাহ

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। অপরিশোধিত তেলের প্রধান উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে। এলএনজি আমদানি করা হয় কাতার ও ওমান থেকে।

বর্তমানে দেশীয় খনি থেকে প্রতিদিন ১৭১ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়। আমদানি করা এলএনজি যোগ হয় আরও ৮৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট। বছরে প্রায় ১১৫টি কার্গোর মাধ্যমে ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টন আসে কাতার থেকে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, দেশে দুটি এলএনজি টার্মিনালে সীমিত পরিমাণ মজুত রাখা যায়। ইতোমধ্যে আমদানি করা ছয়টি কার্গোর মধ্যে চারটি পৌঁছেছে, দুটি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। তবে বাকি কার্গোর উৎস হরমুজ প্রণালি নয় বলে উদ্বেগ তুলনামূলক কম। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, স্বল্পমেয়াদে সমস্যা না হলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে।

এলপিজি ও তেলের মজুত

দেশে বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যা পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। জানুয়ারি থেকেই বাজারে এলপিজি সংকট চলছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ পর্যন্ত বড় সংকটের আশঙ্কা নেই; পর্যাপ্ত আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জরুরি বৈঠক করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে ৩৬ দিনের মজুত সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৫ দিনের। সমুদ্রপথে ও খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২০ থেকে ২৫ দিনের তেল।

সরকার জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২৮ লাখ ২০ হাজার টন তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ উন্মুক্ত দরপত্র ও সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়বে এবং আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। তারা আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান জোরদার ও অন্তত তিন মাসের মজুত সক্ষমতা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সোমবার পর্যন্ত দেশের জন্য তাৎক্ষণিক কোনও উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়নি। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে জাহাজকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আসতে হবে, এতে ভাড়া বাড়বে এবং পণ্যমূল্যে প্রভাব পড়তে পারে।

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD