ঢাবি সিনেট সদস্য

শুধু হল নয়, পুরো ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করা উচিত

kamrul-ahsan-20250809124544.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য ড. কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, শুধু আবাসিক হল নয়, পুরো ক্যাম্পাসেই দলীয় ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করা উচিত।

শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আবাসিক হল শুধু নয়, পুরো ক্যাম্পাসে গুপ্ত, লুপ্ত, সুপ্ত, বিলুপ্ত—সব ধরনের দলীয় ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা দরকার। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রঙের আবরণে শিক্ষক রাজনীতি পুরোদমে চলছে। কিন্তু আমরা চাই ক্যাম্পাস হোক মুক্ত চিন্তার চারণভূমি।

তিনি লিখেছেন, ছাত্ররা যদি দলীয় রাজনীতি থেকে বিরত থাকে, তাহলে তার অনেক ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। হলে টর্চার সেল থাকবে না, সহাবস্থান বাড়বে। এমনকি হলে শিক্ষকদের প্রয়োজনও হবে না—ছাত্ররাই পার্ট-টাইম চাকরি হিসেবে হল পরিচালনা করতে পারবে। রেজিস্ট্রার ভবন, লাইব্রেরি সহ অন্যান্য জায়গাতেও ছাত্রদের কাজের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ব্যবস্থা। এর ফলে তারা নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ এবং আত্মনির্ভরতা অর্জন করবে।

তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষক কেন হলে প্রাধ্যক্ষ হবেন? একজন শিক্ষক কেন হোটেল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন? রেজিস্ট্রার ভবনের ‘লাঞ্চের পর আসবেন’ সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হতে পারব, যদি সেখানে ছাত্রদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।

ছাত্র সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদই হবে নেতৃত্ব শেখার বাস্তব ক্ষেত্র। তারা শুধু আবাসিক হলই নয়, পুরো ক্যাম্পাসেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে—সেবামূলক কাজ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে।

ড. মামুন মনে করেন, দলীয় রাজনীতি থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা সব সময়ই থাকবে। তিনি লেখেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, তা নিয়ে বিতর্ক বা আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সরাসরি দলীয় রাজনীতি থাকাটা অনুচিত। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির অবসান।

পোস্টে তিনি আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ টেনে লেখেন, সেখানকার শিক্ষার্থী বলেছে—ক্যাম্পাসে কোনো দলীয় রাজনীতির চিহ্ন নেই। সবাই ব্যস্ত লেখাপড়া, গবেষণা ও এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিতে। ছাত্ররাই হল চালায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগে পার্ট-টাইম কাজ করে। আমরা কেন তা পারছি না? রাজনীতি আমাদের পরিবেশকে এতটাই বিষাক্ত করে ফেলেছে যে, সেখানে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে বাধা নেই, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেও নেই। কিন্তু এসবের জন্য দলীয় রাজনীতি দরকার নেই। বরং দলীয় রাজনীতি ছাত্রদের সংকীর্ণ মানসিকতা গড়ে তোলে। এমনকি সরকার শিক্ষায় বাজেট কমালেও সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন আনন্দ মিছিল করে—এটা কি সাধারণ ছাত্র চায়? দেশের মানুষ কিংবা অভিভাবকরাও কি শিক্ষক-ছাত্র রাজনীতি চায়?

Leave a Reply

scroll to top