গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এই প্রতিবেদন গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী তৎপরতা, পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি স্থাপনায় আগুন, এবং সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে এনসিপি নেতাদের উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়ার নাটকীয় ঘটনা।
১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ স্মরণে এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশ ডাকেন দলের নেতারা। সকাল থেকেই প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থাকলেও, উলপুরে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুন দেয় একদল সন্ত্রাসী। এতে একজন পুলিশ পরিদর্শকসহ তিনজন আহত হন।
পরবর্তীতে কংশুর বাসস্ট্যান্ড, কোটালীপাড়া, কাঠি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারি গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সভাস্থলে পৌঁছানোর কিছু আগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে মঞ্চে হামলা চালায়, ব্যানার-চেয়ার ভাঙচুর করে।
সমাবেশ শেষে মাদারীপুরগামী গাড়িবহর গোপালগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছালে ফের হামলার শিকার হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা ইটপাটকেল ছোড়ে ও অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়। এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়।
সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং ৪৫ জন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় এনসিপি নেতাদের গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়। বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে সেখান থেকে তাদের নিরাপদে খুলনার উদ্দেশে গাড়িতে করে পাঠানো হয়। এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহতদের মরদেহ জোরপূর্বক জেলা হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায় উত্তেজিত জনতা, পোস্টমর্টেম সম্পন্ন না করেই।
সহিংসতার ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১ হাজার ৫০৭ পুলিশ সদস্য ছাড়াও সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।