তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়া ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রক্তক্ষয়ী রাত অতিবাহিত হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর ও লৌহজং এলাকায় পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মূলত ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসা এবং যানবাহনের বেপরোয়া গতিকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে শ্রীনগরের ছনবাড়ী ব্রিজের ঢালে। সেখানে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়। একই সময় পেছন থেকে আসা আরেকটি ট্রাক বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এই ঘটনায় বাসের চালকসহ অন্তত ১৬ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় বেশ কয়েকজনকে ঢাকা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লৌহজংয়ের মেদেনীমন্ডল এলাকায় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান কুয়াশার কারণে সামনের ট্রাককে দেখতে না পেয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে চালক ভেতরে আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিস দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁকে উদ্ধার করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ট্রাকচালক রিপন মিয়া (৫৫) ও বাসের সুপারভাইজার মানিক মিয়া (৪৪)।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, রাত থেকেই মহাসড়কটি ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। কুয়াশার কারণে সামনের কয়েক হাত দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়ামুখী লেনে কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।