মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় রোববার (২২ জুন) সকালে ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা, কারমেল এবং উত্তর ইসরায়েলের আরও কয়েকটি শহরে অন্তত ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তেল আবিবে বেশ কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মাগেন ডেভিড অ্যাডম নিশ্চিত করেছে। হামলার পরপরই সংস্থাটির কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে এবং আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিন ভোরে ইরানের নাতাঞ্জ, ফরদো এবং ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান দ্রুত এর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর যেকোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আজকের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তবায়ন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক রয়েছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে উত্তেজনা প্রায়শই চরমে পৌঁছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এই সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার পর ইসরায়েলও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে কড়া নজর রাখা হচ্ছে পরিস্থিতির ওপর, কারণ এই সংঘাতের বিস্তার বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





