২৬ জুন—আজ আন্তর্জাতিক নির্যাতন-বিরোধী দিবস। প্রতীকী এ দিনটিতে পৃথিবী জুড়ে নির্যাতনের শিকার মানুষদের কণ্ঠস্বরকে সম্মান জানানো হয়। একদিনে থেমে থাকে না এই প্রতিবাদ—এটি একটি চিরন্তন প্রতিশ্রুতি: মানুষকে অমানবিকতা থেকে রক্ষা করা, শ্রবণযোগ্য করে তোলা তাদের কান্না, তাদের সাহসের স্বীকৃতি দেওয়া।
ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি: বাড়ছে নির্যাতন
যুদ্ধের উত্তেজনা থেকে মধ্যপ্রাচ্য গত রোববার থেকেই একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে। আপাতত সংঘর্ষ থেমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেটিকে ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ বলেছেন, সেই ইসরায়েল-ইরান সংঘাত দৃশ্যত শেষ হয়েছে, অন্তত এখন পর্যন্ত।
ইরানের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নগরবাসীদের অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে, উদ্বেগ প্রবল, এবং নির্যাতনের শিকার থাকার ভয়ে স্হানচ্যুত ও নিপীড়িত হচ্ছে বহু মানুষ । বিশিষ্ট মানবাধিকার বিরোধীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন—“মৃত্যুদণ্ড ও জুলুম ব্যবস্থার বেড়ে ওঠা রুখতে হবে” ।
গাজা ও ফিলিস্তিন: নির্যাতনের এক অনন্ত যন্ত্রণাপথ
ইসরায়েল ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, তা এখনো থামেনি। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করেই তারা এই হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত প্রায় ২০ মাসে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৫৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজায় দীর্ঘ চলমান যুদ্ধপ্রেক্ষিতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনের ঘটনা প্রাণবিদারক। জাতিসংঘের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে—“মারধর, কুকুর দিয়ে কামড়ানো, জলপীড়ন (বন্দিকে বেঁধে চিৎ করে শুইয়ে মাথা পিছনের দিকে হেলিয়ে মুখের উপর অনবরত পানি ঢালা হয়), গণধর্ষণের মতো অলঙ্ঘ্য নির্যাতন করা হচ্ছে ।
“তোমরা একা নও”
জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে ২৬ জুনকে আন্তর্জাতিক নির্যাতন-বিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ দিনটিকে কেন্দ্র করে একটাই বার্তা—তোমরা যারা নির্যাতিত, আমরা আছি তোমাদের পাশে। CVT–র প্রেসিডেন্ট সায়মন অ্যাডামস বলেন,
“আজ আমরা শ্রদ্ধা জানাই নির্যাতনের শিকারদের এবং তাদের পরিবারকে। এই আন্তর্জাতিক দিনে আমরা ঘোষণা করি—ভবিষ্যৎ হবে তাদের, যারা মানবতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।”
নির্যাতিতদের পাশে দাড়াতে বিশ্ব
২৬ জুনের এই দিনে সাবলীল প্রতিজ্ঞা চলছে—“তোমা নির্যাতনের মুখোমুখি, আমরা আছি তোমার পাশে”। জেনেভা-ভিত্তিক IRCT, Amnesty, UN–সহ শতাধিক হেল্পলাইন ও পুনর্বাসন প্রকল্প আজ নির্যাতিত ও পুণর্বাসিত মানুষকে মানসিক, চিকিৎসা এবং আইনি সহায়তা দিচ্ছে ।
সিরিয়ায় দায়ানায় দমন কর্মকাণ্ডে টিউবারকিউলোসিস, পিটিএসডি (PTSD), চোখ ও জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দিয়েছে । ফলত পুনর্বাসনে আনতে পারে নির্মম সংগ্রামের ছাপ; এ দায় তো স্বরাষ্ট্রহীন রাষ্ট্রের, না?
সশস্ত্র বিরতির মধ্যেও নির্যাতন থেমে নেই—বরং নির্যাতন আজ প্রকাশ্য, রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপে চালু বন্দিদশার প্রেক্ষাপটে বিধ্বংসী। ইরান ও এখন ফিলিস্তিনে অবস্থা স্পষ্ট: নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ‘নিশ্ছিদ্র প্রতিবাদ’ ছাড়া শান্তির কোন প্রমান হয় না।
আজ আমরা বলছি—২৬ জুন নয়, প্রতিদিনই যন্ত্রণার প্রতিকার ও নির্যাতিতের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। রক্তাক্ত কণ্ঠের প্রতিটি অহম, তা আমরা শুনব, প্রতিরোধ করব এবং দৃঢ় হ্নদয় দিয়ে অন্যায় বাধা দেব।





