১৬ জুলাইকে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বুধবার (২৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে, যা তথ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক তথ্যবিবরণীর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ১৬ জুলাই তারিখটি ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এই দিবসকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখার একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকার ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি সম্মান জানিয়েছে। সেদিন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার আত্মত্যাগ দেশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, সরকারি পর্যায়ে এই দিবস পালনের জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও দিবসটি পালনে উৎসাহিত করা হবে।
‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের পরিচায়ক। এটি শুধু আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করবে না, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দিবস পালনের মাধ্যমে সমাজ থেকে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।





