ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এই দুর্যোগে একটি পাহাড়ি গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।
গত শনিবার পশ্চিম জাভার পাসিরলাঙ্গু এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে কয়েক ডজন বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ শুরুতেই নানা বাধার মুখে পড়ে।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানান, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৩৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তকৃত মরদেহগুলো দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন, ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
উদ্ধারকারীরা জাভা দ্বীপের পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের অস্থিতিশীল পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে অব্যাহত বৃষ্টি ও মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে অন্তত ৫০টির বেশি ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম জাভার গভর্নর দেদি মুলিয়াদি জানিয়েছেন, পাসিরলাঙ্গু ও আশপাশের বিস্তৃত এলাকা ভূমিধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় মূলত শাকসবজি চাষ করা হতো। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও বন্যার ঘটনা ঘটে। সরকার জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।