ইরান যুদ্ধ ‘শেষের দিকে’, বাড়ছে চুক্তির আশা

9e9829bb41105d814ec49a23f494b7d3-69ddff4023103.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত শেষের দিকে—এমন আশাবাদ বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জটিল বিষয়গুলোতে অগ্রগতি হওয়ায় একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ খুলছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করার পর এই আশাবাদ জোরদার হয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এ সফরের ফলে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু এবং চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মৌলিক মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সমঝোতা হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত হতে পারে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় পক্ষ আলোচনায় ফিরতে সম্মত হলেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।

ট্রাম্প মঙ্গলবার মন্তব্য করেন, “বিশ্বকে অসাধারণ দুই দিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে,” এবং ইরান যুদ্ধ শেষের খুব কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানান, পরবর্তী দফার আলোচনা ইসলামাবাদে হতে পারে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

চলমান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে লেবাননের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে লেবাননে স্থিতিশীলতা অপরিহার্য বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ইসরায়েলি সূত্র জানায়, লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে দেশটির মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসরায়েল ও লেবাননের নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় পর যোগাযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধই এখনো চুক্তির প্রধান অন্তরায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। বিপরীতে তেহরান ৩ থেকে ৫ বছরের সীমিত বিরতির কথা বলছে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

একইসঙ্গে ওয়াশিংটন চায়, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হোক—যা ইরান সহজে মানতে রাজি নয়।

সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি।

 

Leave a Reply

scroll to top