গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনায় হতভম্ব নয়, বরং আরও দৃঢ় হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার রাতে খুলনা প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন,
“হামলা, হত্যাচেষ্টা কিংবা যত বাধাই আসুক, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা থামবে না।”
তিনি বলেন, “কোন জেলায় কখন পদযাত্রা হবে, তাও আগেই নির্ধারিত ছিল। সেই অনুযায়ী গোপালগঞ্জে গিয়েছিলাম। কিন্তু মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা—নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীরা—নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা চালায়।”
“মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে” নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, এনসিপি যখন গোপালগঞ্জে জনগণের সমস্যার কথা বলতে, আন্দোলনের কথা তুলে ধরতে গিয়েছিল, তখনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
“আমরা বক্তব্য শেষে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পথে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। গুলি করে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িতেও হামলা হয়। পরে বাহিনীর সহায়তায় নিরাপত্তার জন্য খুলনায় চলে আসতে হয়,” — বলেন এনসিপি নেতা।
তিনি দাবি করেন, গোপালগঞ্জ এখন হয়ে উঠেছে একটি “ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়কেন্দ্র”।
“আজকের হামলায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে—আওয়ামী লীগ একটি মুজিববাদী সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে দেশ, জনগণ এবং গণতন্ত্র সবই আজ জিম্মি।”
মাদারীপুর-শরীয়তপুরের কর্মসূচি স্থগিত, ফরিদপুর দিয়ে পুনরায় শুরু হামলার কারণে বুধবারের মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের পদযাত্রা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে একটা মিথ চালু ছিল—গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের বাইরে কেউ কোনো প্রোগ্রাম করতে পারে না। কিন্তু এনসিপি সেই মিথ ভেঙে দিয়েছে। ৩০ দিনে ৬৪ জেলায় যাওয়ার ঘোষণা আমরা পূরণ করবই।”
তিনি জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফরিদপুর থেকে আবারও জুলাই পদযাত্রা শুরু করবে এনসিপি। “হত্যার হুমকি দিয়েও থামানো যাবে না গণজাগরণ”।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “সারা দেশে যারা গায়েবি মামলার শিকার, যারা আওয়ামী লীগের গুম-নির্যাতনের শিকার, তাদের সবার কণ্ঠ হয়ে এনসিপি কথা বলছে। তাই আমাদের কণ্ঠ বন্ধ করতে, আমাদের হত্যা করতে, দেশের জাগরণ থামাতে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু হামলা বা হত্যাচেষ্টা—কোনো কিছু দিয়েই এনসিপিকে থামানো যাবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সামান্তা শারমিন ও আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা।