চট্টগ্রাম শহরের মেহেদী মোহাম্মদপুর এলাকার র্যাব-৭ অফিসে মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫ বিকেলে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। র্যাবের নিজ কার্যালয়ে এএসপি (অ্যাডিশনাল সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ) পলাশ সাহার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁর মৃত্যু পুরো পুলিশ প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পলাশ সাহার মরদেহটি তাঁর ব্যক্তিগত অফিস রুম থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুলিশ ও র্যাবের একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশ সাহার মরদেহের পাশে একটি পিস্তল পাওয়া গেছে, যা দিয়ে আত্মহত্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যায়নি, কারণ এটি একটি হত্যা বা আত্মহত্যা হতে পারে—এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
পলাশ সাহার মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে ঘটনাটির প্রকৃতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে সহায়তা করেছে। চিরকুটে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু লেখা রেখে গেছেন, তবে এতে কোনো সুস্পষ্ট আত্মহত্যার ঘোষণা বা হত্যা সংক্রান্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চিরকুটটি কিছুটা ব্যক্তিগত বিষয়বস্তু নিয়ে ছিল, তবে এর পুরো বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ওই চিরকুটে উল্লেখ করা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জনা মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর। তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।’
পলাশ সাহা একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ছিলেন এবং র্যাব-৭-এ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর সহকর্মীরা জানান, পলাশ ছিলেন একজন অত্যন্ত দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা। তার মৃত্যু সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট জনগণের মধ্যে গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলাশ সাহা দায়িত্বশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং তার অভাব পুরো বাহিনীতে অনুভূত হবে।
এখন পর্যন্ত পলাশ সাহার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। আত্মহত্যার তত্ত্বের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাশের সহকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন যে, তিনি মানসিকভাবে কিছুটা চাপের মধ্যে ছিলেন, তবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানাচ্ছে, র্যাবের অফিসে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
ঘটনার পর পুলিশ এবং র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে, যা ব্যাপকভাবে ঘটনাটি অনুসন্ধান করছে। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পলাশ সাহার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।