টানা ছয় দফা দাম বাড়ার পর অবশেষে দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করা হয়।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনা (পাকা সোনা) ও রৌপ্যের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দর বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়, যা মঙ্গলবার ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা। অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটে ভরিপ্রতি কমেছে ৯ হাজার ২১৪ টাকা। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) এ দাম ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা।
২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৪ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭২ টাকা। এ ক্ষেত্রে কমেছে ৮ হাজার ৮৪৭ টাকা।
১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৭ হাজার ৫২২ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকায়।
সনাতনী পদ্ধতির স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম ৬ হাজার ৫৮৯ টাকা কমে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দর কার্যকর থাকবে। নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে, যা ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রূপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রূপার ভরি ৬ হাজার ৫৩১ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রূপা ৪ হাজার ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় কাঁচা সোনার দামের পরিবর্তনের প্রভাবেই দেশের বাজারে এ ধরনের সমন্বয় করা হয়। টানা মূল্যবৃদ্ধির পর এ দরপতন ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।





