৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নানা কারণে আলোচনায় আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সরকারে দায়িত্বে থাকলেও সমসাময়িক বিষয়ে তার সরব অবস্থান এবং ফেসবুকে দেওয়া বিস্ফোরক স্ট্যাটাস রাজনৈতিক অঙ্গনকে প্রায়ই উত্তপ্ত করে তুলত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে তার উত্থান। সে সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। পরে জুলাইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেন। প্রথমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী এবং পরে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই আন্দোলনে নেপথ্য ভূমিকার কারণে অনেকেই তাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আখ্যা দেন। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কাছে মাহফুজ আলমকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। যদিও পরবর্তীতে মাহফুজ নিজে এ পরিচয় নাকচ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই মাস আগে, ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তখন গুঞ্জন ওঠে, তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে বিএনপি বা এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলেই যোগ দেননি এবং নির্বাচনে অংশ নেননি। নির্বাচনের পর তিনি ‘অল্টারনেটিভস’ নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। তবে এখন পর্যন্ত এর কার্যক্রম খুব একটা দৃশ্যমান নয়।
নির্বাচনের পর মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘অল্টারনেটিভস’। তরুণদের ইতিবাচক রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জুলাই আন্দোলনের স্বপ্ন পুনরুদ্ধার এবং দায়িত্বশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৭ সদস্যের জাতীয় সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয় ৬ মার্চ।
কমিটিতে এনসিপির সাবেক কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন তরুণ সংগঠক যুক্ত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সীমিত কিছু কার্যক্রমের বাইরে সংগঠনটির দৃশ্যমান তৎপরতা এখনও কম।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি উপদেষ্টার পদ ছাড়েন। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরমও তোলা হয়েছিল। প্রথমে বিএনপি থেকে নির্বাচন করার কথা থাকলেও পরে সরে দাঁড়ান। এরপর এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আলোচনা থাকলেও দলটির নির্বাচনি জোটে যোগ দেওয়ার পর তিনি সেখান থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি জানান, আদর্শগত কারণে কোনো দল বা জোটের অংশ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেননি।
বর্তমানে তিনি প্রকাশ্যে খুব বেশি সক্রিয় না থাকলেও, ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে—তার তত্ত্বাবধানে লাইসেন্স পাওয়া দুটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘লাইভ টিভি’ ও ‘নেক্সট টিভি’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ‘অল্টারনেটিভস’-এর নেতারা বলছেন, তিনি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং সারাদেশের সংগঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ভবিষ্যতে তিনি রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হবেন বলেও তাদের আশা।
এনসিপির সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে বলে দলটির এক নেতা জানিয়েছেন। তবে তিনি সরাসরি তাদের সঙ্গে কাজ করবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
মাহফুজ আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।