ইয়াঙ্গুন: মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল মিন অং লাইং এবার দেশটির রাষ্ট্রপতির পদে বসতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক শাসনেরই এক নতুন মোড়ক। খবর বিবিসির।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের মাত্র সাত দিন পর মিন অং লাইং ঘোষণা করেছিলেন, এক বছরের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনা হবে। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় লাগল দীর্ঘ পাঁচ বছর।
নামমাত্র নির্বাচন ও অনুগত সংসদ সম্প্রতি মিয়ানমারে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তা মূলত জেনারেল লাইং-এর অনুগতদের নিয়েই সাজানো। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক-চতুর্থাংশ আসন আগে থেকেই সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। বাকি আসনগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই দখল করেছে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ‘ইউএসডিপি’। নির্বাচনের আগেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে এই জয় নিশ্চিত করায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে বিশ্বজুড়ে অনেকেই ‘প্রকৃত নির্বাচন’ না বলে জেনারেলের ‘অভিষেক অনুষ্ঠান’ হিসেবে দেখছেন।
পর্দার আড়ালে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতি পদে বসার আগে মিন অং লাইং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে বাস্তবে এই পরিবর্তন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে আসছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়ে উইন উ, যিনি তার কঠোর ও নিষ্ঠুর অবস্থানের জন্য পরিচিত।
সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ‘পরামর্শদাতা পরিষদ’ ক্ষমতার রাশ নিজের হাতে রাখতে মিন অং লাইং একটি বিশেষ ‘পরামর্শদাতা পরিষদ’ গঠন করেছেন। এই পরিষদ বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। ফলে সামরিক পোশাক ত্যাগ করলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই থাকছে।
সব মিলিয়ে, মিয়ানমারকে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে জেনারেল মিন অং লাইং এখন রাষ্ট্রপতির আসনে বসে নিজের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





