ঈদের আগে বাড়তে শুরু করা মুরগির দাম ঈদের পরও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। একই সঙ্গে সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে।
ক্রেতারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিই ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পুরোপুরি পড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে যাবে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
রামপুরা কাঁচাবাজারে কক মুরগি ৪৪০ টাকা, ব্রয়লার ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, কয়েক দিন আগেও কক মুরগির দাম ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে, যা এখন বেড়ে ৪৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বিক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, “আমরা কক মুরগি ৪২০ টাকায় কিনছি। ৪৪০ টাকায় বিক্রি না করলে লাভ থাকে না।” তার মতে, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে এবং ঈদের আগ থেকেই এ প্রবণতা চলছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।
বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮২০ টাকা, যা কিছুটা কমতির দিকে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে মাছের বাজারে রুই, মৃগেল ও কাতল মাছ ওজনভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও চড়া দাম
সবজির বাজারে দেখা গেছে— আলু: ২০ টাকা/কেজি , পটোল, করলা: ১২০ টাকা , ঢ্যাঁড়স: ৮০, টাকা , ঝিঙা: ১৮০ টাকা , চিচিঙ্গা, শজনে, শিম: ১২০ টাকা , বেগুন: ১৪০ টাকা, এছাড়া লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা এবং ফুলকপি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, “বাজার খুব বেশি চড়া না, তবে দাম ওঠানামা করছে। কিছু পণ্যে ১০–২০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু কমেছে।”
রামপুরার পাশাপাশি মালিবাগ, খিলগাঁও, মেরাদিয়া ও কাওরান বাজারেও প্রায় একই দাম দেখা গেছে।
মেরাদিয়া বাজারে আসা ক্রেতা আব্দুস সোবহান বলেন, “সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। গ্যাসের দামও বেড়েছে। এতে আমাদের পরিবারের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।”
আরেক ক্রেতা মফিজুর রহমান বলেন, “তেলের দামের প্রভাব বাজারে পড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।”
তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।





