তেহরান: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ এলাকায় একটি চীনা তৈরি ‘উইং লুং-২’ ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে? মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চাঞ্চল্যকর খবর জানিয়েছে।
ভুল শনাক্ত ও আসল রহস্য প্রাথমিকভাবে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছিল, ইরানি বাহিনী মার্কিন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কিন্তু ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি আসলে চীনের তৈরি উইং লুং-২ ড্রোন, যা দেখতে অনেকটা মার্কিন ড্রোনের মতো। পরবর্তীতে তেহরান টাইমসও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সন্দেহের তির কেন সৌদি-আমিরাতের দিকে? রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কির মতে, ইরানের কাছে এই প্রযুক্তির ড্রোন নেই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলও চীনা ড্রোন ব্যবহার করে না। অন্যদিকে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে এই শক্তিশালী ড্রোনের বিশাল মজুদ রয়েছে। এর আগে সুদানের গৃহযুদ্ধেও আমিরাত এই ড্রোন মোতায়েন করেছিল বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল।
আঞ্চলিক মেরুকরণ ও মার্কিন চাপ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড্রোনটি যদি সৌদি আরব বা আমিরাতের হয়ে থাকে, তবে তা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে তাদের জড়িয়ে পড়ার বড় প্রমাণ। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সরাসরি সহায়তার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
ইতোমধ্যেই জানা গেছে, সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা এবং কিং ফাহাদ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। যদিও রিয়াদ শুরুতে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু বর্তমানে তারা মার্কিন চাপ রক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য গড়ার চেষ্টা করছে।
সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের ভিন্ন মাত্রা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর রিয়াদ কিছুটা ক্ষুব্ধ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানায়নি। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এক্ষেত্রে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। দেশটি এমনকি শক্তি প্রয়োগ করে ইরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে।
শিরাজের আকাশে এই ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।





