নিয়ম মেনে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি: ডিএমপি

1770381144-59dc1c2a760ea83d345060bb142dc433.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ মোড় সংলগ্ন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবিতে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

ডিএমপি জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। তালেবুর রহমান দাবি করেন, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ অভিযানে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। সংঘর্ষে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিকেল ৪টার দিকে তারা যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

তবে চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, আহতদের মধ্যে অনেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম ঝুমা, রাকসুর নেতা সালাউদ্দিন আম্মারসহ একাধিক নেতা-কর্মী রয়েছেন। যদিও গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

Leave a Reply

scroll to top