ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘকে চিঠি দেবে সরকার

1770381772-af2c45fedca20e714113750fb4d2c3e7.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার উদ্যোগ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে আইনগত দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরুতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।

পরদিন শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং এক পর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার দাবি করেছে, এ সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও নিশ্চিত করেছে।

সরকারি বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নাকচ করে সরকার জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকার আরও বলেছে, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ আসন্ন নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিও বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

একই সঙ্গে সরকার একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সকল নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা জরুরি।

 

Leave a Reply

scroll to top