আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বিএনপি। এর মধ্যে দুটি আসনে আগে ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি আসনে নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।
দলীয় সূত্র জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরের আংশিক) আসনে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে এই আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর এই আসনে সালাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর আসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও কোন্দল চলে আসছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড আসলাম চৌধুরীকেই বেছে নিল।
প্রার্থী তালিকায় রদবদল হয়েছে চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনেও। শুরুতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী) আসন থেকে লড়ার কথা থাকলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এত দিন ১১ নম্বর আসনটিতে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, আমীর খসরুর ছেড়ে দেওয়া চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান তূর্যকে নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরী, ১০ আসনে সাঈদ আল নোমান এবং ১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচনে ধানের শীষের লড়াই করবেন।”
এর আগে, ৩ নভেম্বর ঘোষিত তালিকায় চট্টগ্রাম-১০ আসনে আমীর খসরু ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে সালাউদ্দিনের নাম জানানো হলেও ১১ নম্বর আসনটি তখন শূন্য রাখা হয়েছিল। আজকের এই নতুন ঘোষণার মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা কাটল।
এমএ