ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মাদরাসাটি পরিচালনা করতেন আল আমিন ও তার স্ত্রী আসিয়া। বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে আল আমিন পলাতক থাকলেও তার স্ত্রী আসিয়া, শ্যালিকা ইয়াসমিন আক্তার এবং সহযোগী আসমানি খাতুনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, যে ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তল্লাশিতে সেখান থেকে ল্যাপটপ, মনিটর, ড্রামভর্তি তরল রাসায়নিক এবং চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে একটি চার কক্ষের বাসা ভাড়া নিয়ে ‘উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’ পরিচালনা করছিলেন আল আমিন। এর মধ্যে দুটি কক্ষ শ্রেণিকক্ষ হিসেবে এবং বাকি দুটি কক্ষ পরিবারের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আল আমিনের বিরুদ্ধে এর আগেও ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে দুবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে জামিনে বেরিয়ে আসার পর কিছুদিন অটোরিকশা ও উবার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে তার সাথে কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এর আগে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে হাসনাবাদ এলাকার ওই মাদরাসা ভবনে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে একতলা ভবনটির দুটি দেয়াল ধসে পড়ে। এই ঘটনায় আল আমিনের স্ত্রী ও তিন সন্তান আহত হন। বর্তমানে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের ধারণা, মজুতকৃত রাসায়নিক দ্রব্যের বিক্রিয়া অথবা বিস্ফোরকের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিস্ফোরণটি কোনো নাশকতার পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।”
এমএ