দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিপুল লোকসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে সৃষ্টি হতে পারে তীব্র যানজট।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নগরবাসীকে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার এবং নির্দিষ্ট কিছু সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে লন্ডন থেকে দেশে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট সড়ক) ও এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশানের নিজ বাসভবনে যাবেন তারেক রহমান। এ সময় বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত রাস্তায় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে অতিরিক্ত জনসমাগম হবে।
সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোর ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মহাখালী থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং কুড়িল থেকে মস্তুল পর্যন্ত পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিএমপি বিকল্প হিসেবে যে রাস্তাগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. আব্দুল্লাহপুর–কামারপাড়া–ধউর ব্রিজ–পঞ্চবটি–মিরপুর বেড়িবাঁধ–গাবতলী রুট
২. উত্তরা ও মিরপুরবাসীর জন্য হাউস বিল্ডিং–জমজম টাওয়ার–১২ নম্বর সেক্টর–মেট্রোরেল রুট
৩. গুলশান, বাড্ডা ও প্রগতি সরণি এলাকার যাত্রীদের জন্য গুলশান-১, পুলিশ প্লাজা, আমতলী ও মহাখালী রুট
৪. মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের জন্য মিরপুর–গাবতলী রোড
৫. কাঞ্চন ব্রিজ থেকে আগত যানবাহনের জন্য বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হয়ে মাদানী এভিনিউ।
এ ছাড়া, মিরপুর ও উত্তরা অঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেল এবং ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের ট্রেন ব্যবহারের বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, সম্ভাব্য বিলম্ব এড়াতে বিদেশগামী যাত্রী ও হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, কোনো ধরনের ব্যাগ বা লাঠি সাথে রাখা যাবে না। সেইসাথে গাড়িবহরে যোগ দেওয়া এবং গুলশান-বনানী হতে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার যানবাহনগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করতে পারবে।
এদিকে নেতাকর্মীদের জন্য নির্ধারিত পার্কিং স্থানও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. টঙ্গী হয়ে আগত যানবাহনের জন্য বিশ্ব ইজতেমা মাঠ
২. পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে আগত যানবাহনের জন্য নীলা মার্কেট ও বাণিজ্য মেলার মাঠ
৩. গাবতলী রুটের যানবাহনের জন্য দিয়াবাড়ি পশুর হাট
৪. বাবুবাজার ও বসিলা ব্রিজ হয়ে আগত যানবাহনের জন্য আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ
৫. মাওয়া রোড দিয়ে আগত যানবাহনের জন্য মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা।
ডিএমপির প্রত্যাশা, নগরবাসীর সহায়তায় এই বিশেষ দিনে ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
এমএ