ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ঘিগড়া গ্রামে ঋণের জেরে গৃহবধূ নারগিস আক্তারের একটি গাভি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে। গাভির এক মাস বয়সী বাছুরটি মায়ের দুধ না পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অসুস্থ বাছুরটিকে কোলে নিয়ে শনিবার ঝালকাঠি আদালতে হাজির হন নারগিস, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়।
নারগিস আক্তার জানান, তার স্বামী আবু বকর দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। জীবিকার তাগিদে গার্মেন্টসে চাকরি করে কষ্ট করে একটি গাভি কেনেন তিনি। গাভিটির এক মাস বয়সী একটি বাছুরও রয়েছে। গত বুধবার সকালে স্থানীয় শুক্তাগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল খান দাবি করেন, নারগিসের স্বামী আবু বকরের কাছে তার ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। সেই পাওনা আদায়ের জন্যই তিনি জোরপূর্বক গাভিটি নিয়ে যান।
নারগিস বলেন, “দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতাম। এখন গাভি না থাকায় বাছুরটি দুধ না পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বোতলে দুধ ও ভাতের মাড় খাইয়ে কোনোভাবে বাঁচিয়ে রাখছি।”
অভিযুক্ত বেলাল খান বলেন, “৯ বছর আগে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে আবু বকরকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। সুদে-আসলে তা এখন ৩০ হাজার হয়েছে। সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় গরুটি নিয়ে এসেছি।”
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, “আমি আদালতপাড়ায় উপস্থিত ছিলাম। ঘটনাটি দেখেছি। তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তারা জানান, গরিব নারীর শেষ সম্বল কেড়ে নেওয়া অমানবিক। ঘটনাটি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।