ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস তাদের নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কংগ্রেস সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মালায়ালম ভাষার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত বিতর্ক অনুষ্ঠান থেকে। সেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র প্রিন্টু মহাদেব মন্তব্য করেন—“রাহুল গান্ধীকে বুকে গুলি করা হবে।” জাতীয় রাজনীতির একজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য এ হুমকি শুধু অভূতপূর্ব নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রবিবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. ভেনুগোপাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বলেন, এটি কোনো অসাবধানতাবশত উচ্চারিত মন্তব্য নয়; বরং ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে দেওয়া হুমকি। তিনি সতর্ক করে দেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না এলে সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার মতো বার্তা যাবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তা নিয়ে সিআরপিএফ ইতিমধ্যেই একাধিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়, যা নিয়ে কংগ্রেস উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
কংগ্রেস মনে করে, গান্ধী পরিবার আগে থেকেই রাজনৈতিক সহিংসতার বড় শিকার। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী ও ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড তার বড় প্রমাণ। তাই রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দেওয়া এ হুমকি কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
প্রিন্টু মহাদেবের মন্তব্যকে ঘিরে শুধু কংগ্রেস নয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি দলের একজন মুখপাত্রের মুখ থেকে সহিংস উসকানি কেবল ব্যক্তির জীবনের জন্য নয়, বরং ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও হুমকি।
কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করছে। তারা অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে স্পষ্ট বার্তা যায়—ভারতের রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলছেন। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা মুখপাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা আসেনি। এই নীরবতা নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সব মিলিয়ে রাহুল গান্ধীর প্রতি প্রকাশ্য হত্যার হুমকি ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দৃষ্টি নিবদ্ধ—কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি কী পদক্ষেপ নেয় এবং কীভাবে এ সংকট মোকাবিলা করে।