বাংলাদেশে জলবায়ু ক্ষতি প্রতিরোধে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি

SAVE_20250916_202026.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আয়োজিত আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইনক্লুসিভ বাজেটিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স (আইবিএফসিআর) ফেজ-টু কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২০২৪ সালে শিল্প বিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় রেকর্ড ১.৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এ অবস্থার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশে। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.৫৬ শতাংশ। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়ে দেশের জিডিপির ০.৭ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১ কোটি ৩৩ লাখ বাংলাদেশি বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।

কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স ডিভিশন, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এএফডি সহায়তা করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ বিভাগ সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অতি সামান্য অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি আমাদেরই ভোগ করতে হচ্ছে। আইবিএফসিআর-২ আমাদের জনগণ ও অর্থনীতির জন্য আরও শক্তিশালী স্থিতিশীলতা গড়ে তুলবে।”

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, “কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের শক্তিশালী কাঠামো প্রয়োজন। সহযোগিতা বাড়ানো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা গেলে জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলো সরকারি আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে।”

ইউএনডিপি’র রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার বলেন, “আইবিএফসিআর-২ মূলত জলবায়ু অগ্রাধিকারকে সরকারি অর্থ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে, যাতে ব্যয়িত প্রতিটি টাকা মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।”
এএফডি’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সিসিলিয়া কর্টেসে জানান, “আইবিএফসিআর-২ একটি কারিগরি সহায়তা কর্মসূচি, যা ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর নীতিনির্ভর ঋণ কর্মসূচির পরিপূরক। এই ঋণ বাংলাদেশের জলবায়ু কৌশল বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।”

কর্মসূচির মাধ্যমে বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থাকে প্যারিস চুক্তি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি), জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থার মূল কাঠামোয় জলবায়ু সহনশীলতা অন্তর্ভুক্ত করে দেশটি উন্নয়ন অর্জন সুরক্ষিত করবে এবং জনগণকে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে।

Leave a Reply

scroll to top