জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল বা পণ্য যদি খোলা বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। এই সভায় কাস্টমস, ভ্যাট এবং আয়কর অনুবিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্ড সুবিধার আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করতে পারে, যাতে তারা রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। তবে, এনবিআরের তথ্যমতে, অনেক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার অপব্যবহার করে পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে, যার ফলে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। এনবিআর এই অপব্যবহার রোধে বিআইএন লক এবং ফৌজদারি মামলা করে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এছাড়া, এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন, যদি বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে কোনো রাজস্ব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি ট্যাক্স কমিশনারদের কাছে বন্ড অপব্যবহারের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য চেয়েছেন এবং “জিরো টলারেন্স” নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি কাস্টমস হাউসে নিলাম কার্যক্রম জোরদার করারও নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে, এনবিআরের তিনটি অফিসের আওতায় প্রায় ৮ হাজার বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে রপ্তানিকারকরা শুল্কমুক্ত কাঁচামাল ও অ্যাকসেসরিজ আমদানির সুবিধা পান, তবে শর্ত হলো, সেই পণ্যগুলি পুরোপুরি রপ্তানি করতে হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, “আমাদের মূল ফোকাস হতে হবে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা।”
তিনি ভ্যাট আইন প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বলেছেন, যারা সৎভাবে ভ্যাট পরিশোধ করেন, তাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা যাবে না, তবে যারা ভ্যাট ফাঁকি দেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করতে হবে।
চেয়ারম্যান এক মাসের মধ্যে সিঙ্গেল-উইন্ডো সিস্টেম এবং অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের মতো সব বন্ড-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রতিটি সেবার জন্য সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান এছাড়া টিআইএন থাকা সত্ত্বেও যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের সবাইকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করে আইনের মাধ্যমে কর আদায় কার্যক্রম চালাতে হবে।
এনবিআর কর্মকর্তারা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।