ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশইন’ কার্যক্রম কোনোভাবেই থামছে না। গত এক মাসে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৭২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ।
আজ শুক্রবার (২০ জুন) ভোরেও হরিপুর উপজেলার চাপসার সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইন করা হয়, যাদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ১ জন শিশু রয়েছেন। এদের সবাইকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। হরিপুর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিএসএফের এই অপতৎপরতা রোধে বিজিবি সাধ্যমতো চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশিদের পুশইন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১৪ জুন: একই চাপসার সীমান্ত দিয়ে সাত শিশু, ১২ নারী ও সাত পুরুষকে পুশইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে দু’জন ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় রাতেই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ভারতে ফেরত পাঠায় বিজিবি।
১৭ মে: চাপসার সীমান্ত দিয়েই চার শিশু, ১১ নারী ও দু’পুরুষকে পুশইন করা হয়।
১০ জুন: পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দুরিয়া সীমান্ত দিয়ে দু’নারী, তিন শিশু ও দু’পুরুষকে ঠেলে দেওয়া হয়।
৯ জুন: পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা সীমান্ত দিয়ে তিনজন পুরুষকে পুশইন করা হয়।
৩ জুন: ফকিরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সাত শিশু, তিন নারী ও তিন পুরুষকে এবং ২২ মে বৈরচুনা সীমান্ত দিয়ে দু’নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ।
৮ মে: চাপসার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ১০ জন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে, যাদের বিরুদ্ধে বিজিবি থানায় মামলা করেছে।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পুশইনকৃত ব্যক্তিরা ১০ থেকে ১২ বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতেন দিল্লি ও পাঞ্জাবে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় পুলিশের হাতে তারা ধরা পড়েন। ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে বিএসএফ সুযোগ বুঝে সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে।
জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে আটক করে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। পুশইন করার জন্য তারা ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ এবং হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করছে। সূত্র মতে, এসব সীমান্ত এলাকা তুলনামূলক ফাঁকা এবং ফসলের মাঠ, যে কারণে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সহজে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে পারছে। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সেনগাঁওয়ের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিএসএফ জোর করে লোকজনকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। পুশইন ঠেকাতে তারা বিজিবিকে সহায়তা করছেন, কিন্তু বিএসএফের গুলির ভয়ে অনেকে এগিয়ে আসছেন না।
এ বিষয়ে বিজিবির ফকিরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবু বক্কর জানান, বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। তবে লোকবল কম থাকার কারণে পুরোপুরি প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, পতাকা বৈঠক করে বিএসএফকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা আর এমনটা করবেন না বলে কথা দিয়েও কথা রাখছেন না। পুশইন করা ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের নামে পীরগঞ্জ থানায় পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। বাকিদের ঠিকানা যাচাই করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।