‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে টানাপোড়েন ও মতভেদের দীর্ঘ শৃঙ্খল। যদিও এই সনদ জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পথনকশা হিসেবে ঘোষিত, এর আইনি কাঠামো, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি গভীর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভক্তি দীর্ঘায়িত হলে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিএনপি: ইতোমধ্যে সনদে স্বাক্ষর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যোগ দেবেন। বিএনপি মনে করে সংস্কার প্রয়োজন, তবে জনগণের স্বার্থে, কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য নয়। জামায়াতে ইসলামী: আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ পরামর্শ শেষে অবস্থান জানানো হবে। এনসিপি: নির্বাচন-পরবর্তী শাসনব্যবস্থার নকশা আগে নির্ধারণ না হলে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব হবে না বলে আপত্তি তুলেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চূড়ান্ত সনদ প্রস্তুত করেছে। সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া আগামী নির্বাচন অর্থবহ হবে না। ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।” সূত্র বলছে, কমিশনের মেয়াদ ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সনদ বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর জরুরি, নইলে পুরো প্রক্রিয়া অচল হয়ে পড়বে।
চূড়ান্ত সনদের পার্থক্য:
খসড়া সনদে উল্লেখ ছিল, আদালতে বৈধতা প্রশ্ন করা যাবে না। চূড়ান্ত সনদে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী দলগুলো প্রশ্ন তুলবে না। গণ-অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে একমাত্র ব্যাখ্যাকারী সংস্থা হিসেবে উল্লেখ চূড়ান্ত সনদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: আইনি ভিত্তি দুর্বল হলে দলগুলোর আস্থা তৈরি হবে না; কেবল রাজনৈতিক চুক্তি হলে নির্বাচনের পর পুনরায় সংকট দেখা দেবে। ড. তাসমিনা হক: শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত সনদে পরিবর্তন দলগুলোকে বিভ্রান্ত করেছে; আস্থাহীনতা থাকলে সনদ ব্যর্থ হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন: ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পর এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করাই প্রথম শর্ত।





