জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের ওপর আরও কঠোর নজরদারি এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ই-টিআইএন (ইলেকট্রনিক ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) থাকা সত্ত্বেও যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করবে কর কমিশনাররা। এরপর তাদের আয়, ব্যয় এবং সম্পদের বিস্তারিত তদন্ত করা হবে, এবং আইন অনুযায়ী কর আরোপ ও আদায় কার্যক্রম চালানো হবে।
এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায়। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান কর কমিশনারদের প্রতি মাসে রাজস্ব আহরণ, করফাঁকি উদঘাটন এবং দাখিলকৃত রিটার্ন প্রক্রিয়াকরণের অগ্রগতি উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এনবিআরের নতুন নির্দেশনা ও পদক্ষেপ:
নন-ফাইলারদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম: করফাঁকি প্রতিরোধ ও রাজস্ব আহরণ ত্বরান্বিত করার জন্য কমিশনারদের নন-ফাইলারদের কার্যক্রম তদারকি করতে বলা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে কমিশনারদের সাথে সভা করে অডিট মামলা নিষ্পত্তি, প্রসেসিং কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
অনলাইন কার্যক্রমের বাধ্যতামূলক করা: বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো এবং অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের মতো বন্ডের সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। প্রত্যেক সেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সময়ে সেবা দিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ: বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল বা পণ্য যদি খোলা বাজারে বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট আমাদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করা: কাস্টমস কমিশনারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।” সন্দেহের ভিত্তিতে বিন লক না করে, অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় সঠিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
ভ্যাট আইন প্রয়োগ: ভ্যাট কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভ্যাট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করে প্রযোজ্য কর আদায় করতে হবে। যারা নিয়ম মেনে ভ্যাট পরিশোধ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অহেতুক চাপ প্রয়োগ করা যাবে না, এবং ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিআরের লক্ষ্য: এনবিআরের এই পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্য হল রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বন্ড সুবিধার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।