ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন বলেছেন, মহানবী (সা.) হলেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রপথিক। পনেরশ’ বছর আগে তিনি মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খালিদ বলেন, আধুনিক বিশ্বে ‘মানবাধিকার’, ‘নারী অধিকার’, ‘শিশুর অধিকার’, ‘মত প্রকাশের অধিকার’ প্রভৃতি বিষয়গুলি আলোচিত হলেও, দেড় হাজার বছর আগে নবী (সা.) ইতিবাচকভাবে এগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি কেবল তত্ত্বই দিয়েছিলেন না, বাস্তবেও তা কার্যকর করেছেন।
উপদেষ্টা রাসুল (সা.) এর হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, “অনারবের ওপর আরবের, বা আরবের ওপর অনারবের, কালো মানুষের ওপর সাদা মানুষের বা সাদা মানুষের ওপর কালো মানুষের কোনো বিশেষ মর্যাদা বা প্রাধান্য নেই।” হযরত মুহাম্মদ (সা.) বর্ণবৈষম্য ও জাত্যভিমানের অবসান ঘটিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মদিনার সনদকে প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানের গুরুত্ব অনেক বড়। মেসোপটেমিয়ার হাম্বুরাবির ‘দি কোড অব হাম্বুরাবি’তে অনেক অসঙ্গতি থাকলেও, দেড় হাজার বছর আগে হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন, যা অনন্য বৈশিষ্ট্যযুক্ত।
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.) এর অবদানও অসামান্য। প্রাচীন রোম, পারস্য ও ভারতীয় সমাজে নারীদেরকে অবমূল্যায়ন করা হতো। কিন্তু নবী (সা.) ঘোষণা দিয়েছেন, “মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত।” এটি নারী জাতিকে মর্যাদার শিখরে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি হযরত আয়েশা (রা)-এর শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ড. খালিদ সকলকে নবী (সা.) এর সীরাত অনুসরণ করে জীবন আলোকিত করার জন্য আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ট্রীজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন। বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি আব্দুল মুনয়িম খাঁন নবী (সা.) এর সীরাত নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিশেষে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত কেরাত, নাতে রাসুল (সা.), ক্যালিগ্রাফি ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।