খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ডাকা অবরোধ চলাকালে গুইমারার রামেসু বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর মুখোশধারী একদল লোক বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বেশ কয়েকটি দোকান, মোটরসাইকেল এবং পাশের কিছু বসতবাড়ি পুড়ে যায়।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুইমারা উপজেলার খাদ্যগুদামের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে অবরোধকারীরা ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে সেনাবাহিনীর সিন্দুকছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মাজহার হোসেন রাব্বানীসহ সেনার ১৩ সদস্য আহত হন। হামলার শিকার হন দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরাও। স্থানীয় এক টিভি চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি এম সাইফুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। সকালের ঘটনায় সেনা সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
দুপুরে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে বাজার ফাঁকা হয়ে যায়। তখনই ২০-২৫ জন মুখোশধারী লোক দোকানপাট ও বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় গুলির শব্দও শোনা যায়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানান, সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজন গ্রামবাসীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান। বিকেলের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখার উদ্দিন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করে একটি পক্ষ ফায়দা লুটতে চাইছে। সব জাতিগোষ্ঠীকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানাই।”
বর্তমানে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দোকানপাট বন্ধ, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এলাকাজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।