কেরানীগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা: তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫

দেশে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশের খাতায় প্রতিদিন গড়ে ১২টি ধর্ষণের মামলা রেকর্ড হচ্ছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিন যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি লাশ গুমের সাজা হিসেবে প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন খোলামোড়া গ্রামের কামির উদ্দিনের ছেলে মো. সজিব (২৫), ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার খাঁকান্দা গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে মো. রাকিব (২৩) ও শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার মুসলিম মাতবরের ছেলে শাওন ওরফে ভ্যালকা শাওন (২৬)।

মামলার অন্য দুই আসামি আলী আকবর (২২) ও মো. রিয়াজের (২২) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি রাকিব, রিয়াজ ও শাওনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে দণ্ডিত রাকিব ও শাওনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রিয়াজকেও ফেরত পাঠানো হয় তবে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডিত সজিব পলাতক থাকায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। খালাসপ্রাপ্ত আসামি আলী আকবার পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছেন, তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে।

ট্রাইব্যুনাল রায় উল্লেখ করেছেন, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে কিশোরীকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হননি। তারা লাশ গুম করার জন্য কিশোরীর মরদেহ পুকুরের পানিতে ফেলে দেন। নির্মম ওই ঘটনার জন্য মৃত্যুদণ্ডই তাদের একমাত্র প্রাপ্য।

জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আঁটিবাজার এলাকায় টহল দেওয়ার সময় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশের কাছে খবর আসে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের সামনে পুকুরের পানিতে একজন নারীর মরদেহ পানিতে ভাসছে।

পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্তের পর পুলিশ শাওনকে গ্রেপ্তার করে। শাওন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তিনি স্বীকারোক্তিতে বলেন, রাকিব, সজিব, আলী আকবর ও তিনি মিলে ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের পানিতে ফেলে রাখেন। পরে রাকিব ও সজিব গ্রেপ্তার হন। তারাও একই কথা বলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD