লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে আলী হোসেন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৪/৫-এস নম্বর পিলার এলাকায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এ দুঃখ প্রকাশ করে।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে ওই সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন ওই এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়রা জানান, ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় আলী হোসেনসহ সাত-আটজন বাংলাদেশি ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৪/৫-এস নম্বর পিলার এলাকার শূন্যরেখা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই আলী হোসেন নিহত হন।
অন্যরা পালিয়ে এলেও আলী হোসেনের মরদেহ বিএসএফ নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালে বিএসএফ তাতে সাড়া দেয়। বৈঠকে গুলির দায় স্বীকার করে বিএসএফ বিজিবির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম। অপরদিকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সৌরভ ও একজন স্টাফ অফিসার।
পতাকা বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি তিস্তা ৬১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, বিএসএফ জানায়—প্রথমে অনুপ্রবেশকারীদের সতর্ক করতে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। এতে আলী হোসেন নিহত হন।
ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলেও বৈঠকে জানিয়েছে বিএসএফ।