ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমান–এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ প্রায় নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠনের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশের পর তা চূড়ান্ত করতে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাই শেষে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে। সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার এই শপথ পড়ান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় শপথ পাঠ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংবিধানের ১৪৮(২)ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পরিচালনা করবেন। ফলে প্রয়োজনে সিইসির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ
সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা জোটকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা কার্যকর হবে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পরপরই দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে নির্বাচিত সরকারের কার্যক্রম শুরু হবে।
রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–এর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেছেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে রাষ্ট্রপতি অন্য কাউকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন এবং এরপর মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হবে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ আয়োজন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হতে পারে।
সার্বিকভাবে সাংবিধানিক বিধান, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।