রিজিক যে সাত কাজে বাড়ে

sa_98.1752161901.jpg
মো: আল মামুন ধর্ম ডেস্ক
প্রাত্যহিক জীবনে মানুষ সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত থাকে, তা হলো রিজিক বা জীবিকা। অনেকের জীবনে পরিশ্রম সত্ত্বেও রিজিকের সংকট লেগেই থাকে। অথচ কোরআন-সুন্নাহতে এমন বহু আমল ও নির্দেশনা রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পালন করলে রিজিক বাড়ে, জীবনে আসে প্রশান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য।

ইসলামে রিজিক বৃদ্ধির জন্য যেসব কার্যকর আমল রয়েছে, তার মধ্যে সাতটি এখানে তুলে ধরা হলো:

১. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি

আল্লাহকে ভয় করা বা তাকওয়ার পথে চলা রিজিক বাড়ানোর প্রধান উপায়।
কোরআনে আল্লাহ বলেন: “যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে মুক্তির) কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
(সুরা আত-তালাক, আয়াত ২-৩)

২. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা

রিজিক ও জীবনের সবকিছু আল্লাহর হাতে। তাঁর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা করলে জীবনে আসে প্রশান্তি ও বরকত।
আল্লাহ বলেন: “যে কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
(সুরা আত-তালাক, আয়াত ৩)

৩. দান-সদকা করা

দান করা কোনো সম্পদের ঘাটতি ঘটায় না, বরং আল্লাহর কাছে উত্তম ঋণ হিসেবে গৃহীত হয় এবং বহু গুণ বাড়িয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আল্লাহ বলেন: “কে আছেন যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবেন? তাহলে আল্লাহ তা বহু গুণে ফিরিয়ে দেবেন। আল্লাহই সীমিত ও প্রসারিত করে থাকেন।”
(সুরা বাকারা, আয়াত ২৪৫)

৪. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।
আল্লাহ বলেন: “যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয় আমার শাস্তি কঠিন।”
(সুরা ইবরাহিম, আয়াত ৭)

৫. ইসতেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা

গোনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়ার আমল আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। এটি রিজিক বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আল্লাহ বলেন: “তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন।”
(সুরা নুহ, আয়াত ১০-১২)

৬. আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা

রিজিক বাড়াতে হলে পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
রাসুল (সা.) বলেছেন: “যে কামনা করে তার রিজিক বাড়ুক এবং আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।”
(সহিহ বুখারি)

৭. সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করা

রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করলে রিজিকে বরকত হয় এবং অভাব দূর হয়।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করবে, তার জীবনে কখনো অভাব আসবে না।”
(বায়হাকি, হাদিস ২৪৯)

রিজিক শুধু অর্থ-সম্পদের নাম নয়, বরং মানসিক শান্তি, সুস্থতা, পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধিও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। তাই ইসলামিক নিয়ম অনুসারে জীবনে এসব আমল অন্তর্ভুক্ত করলে শুধু রিজিকই বাড়বে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হবে।

Leave a Reply

scroll to top