দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় চালু হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এর মধ্যে ১৩৫টি উপজেলা অতি উচ্চ বা উচ্চ দারিদ্র্যপ্রবণ, যেখানে একসঙ্গে শিক্ষা ও পুষ্টি সংকটে রয়েছে। বাকি ১৫টি উপজেলা অপেক্ষাকৃত নিম্ন দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত।
এই কর্মসূচির আওতায় ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কর্মসূচিটি জুলাই মাস থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে তা শুরু করা না গেলে আগস্ট থেকে চালুর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
গত ২১ জুন, শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব ও স্কুল ফিডিং প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুটি পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য, বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিসমৃদ্ধ ফর্টিফাইড বিস্কুট, ইউএইচটি দুধ, বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, কলা এবং স্থানীয় মৌসুমি ফল সরবরাহ করা। সপ্তাহের রুটিন অনুযায়ী রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার দেওয়া হবে বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম। সোমবার থাকবে বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ। বুধবার দেওয়া হবে ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা বা মৌসুমি ফল।
দেশব্যাপী আটটি বিভাগের ৬২ জেলার নির্ধারিত ১৫০টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। এসব উপজেলার তালিকায় রয়েছে ঢাকা, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা।
প্রত্যেক উপজেলায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠিত হবে, যারা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্য বিতরণ করা হবে। একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাবে একটি সিদ্ধ ডিম, ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি, ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি দুধ, ৭৫ গ্রাম ওজনের বিস্কুট এবং ১০০ গ্রাম ওজনের একটি কলা বা মৌসুমি ফল। প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী এতে মোট ক্যালোরির ২৫.৯ শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২.২ শতাংশ, প্রোটিনের ১৬.৪ শতাংশ এবং ফ্যাটের ২১.৭ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো— শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ, অপুষ্টি হ্রাস এবং শিক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখা। একইসঙ্গে এটি সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পথকে সহজ করবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘অনেক পরিবার আর্থিক কারণে ডিম, বনরুটি বা কলার মতো খাবার সন্তানের জন্য দিতে পারে না। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের ক্ষুধা নিবারণ ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় দেশে প্রথম স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হয়, যা ২০১০ পর্যন্ত চলেছিল। এরপর ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে উচ্চমানসম্পন্ন বিস্কুট সরবরাহ করা হতো। নতুন কর্মসূচিটি আগের চেয়ে আরও পুষ্টিকর ও বিস্তৃত, যা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বাসস





