মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন সরকারকে শপথ পাঠ করিয়ে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান-কে শপথ বাক্য পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমে দেশে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শপথ পাঠ করান শেখ হাসিনা-র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই সময় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। তবে একই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। ওই অন্তর্বর্তী সরকারকেও রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শপথ পড়ান।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২৬ সালে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়। নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনটি পৃথক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনটি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতিশীলতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোর কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। রাষ্ট্রপতির এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬— টানা তিন বছরে তিনটি পৃথক সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেনি, বরং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতাও সামনে এনেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।