ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শফিকুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাহিদ ইসলাম, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব নির্ধারণের মাধ্যমে নবগঠিত জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কার্যক্রম পরিচালনার নতুন ধাপ শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এরপর শপথ নেন এনসিপির সংসদ সদস্যরা। জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সংসদ সদস্যরা একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেন। সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় এই জোটের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে দলটি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। পরে বিকেলে তাদের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নতুন সরকারের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদলের অবস্থানের পার্থক্য ভবিষ্যতে সংসদীয় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী উপস্থিতি সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দলটি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় লাভ করে বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্বে এসেছে। পাশাপাশি এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ায় বিরোধী জোট আরও সুসংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নতুন সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংস্কার, অর্থনৈতিক নীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।





