রমজানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ইভেন্ট ভেন্যু ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) আবারও জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজারে। মাহে রমজানের তৃতীয় দিনে বিকেল থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গত কয়েক বছর ধরে আইসিসিবি এ আয়োজন করে আসছে। পরিচ্ছন্ন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও পরিবারবান্ধব পরিবেশে পুরান ঢাকার স্বাদ উপভোগের সুযোগ থাকায় রাজধানীবাসীর কাছে এটি এখন পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি গন্তব্য।
আইসিসিবির হল–৫ এ প্রায় ৩০টি স্টলে বিভিন্ন ক্যাটারিং সার্ভিস ও রেস্টুরেন্ট তাদের ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে রেখেছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি, তেহারি, রোস্ট, মাটন লেগ রোস্ট, চিকেন রেশমি কাবাব, বিভিন্ন ধরনের কাবাব, হালিম, দই বড়া, জিলাপি ও মিষ্টান্ন—সবই পাওয়া যাচ্ছে এক জায়গায়।
এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো নতুন কিছু আইটেমের সংযোজন। ফ্যামিলি ইফতার প্ল্যাটার, ফিউশন কাবাব ও বিশেষ ডেজার্ট আইটেম তরুণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে বাজারটি পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
ইফতার বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবারের মান, পরিবেশ ও সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত প্রস্তুত প্রক্রিয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে অনেকেই এটিকে ‘ভ্যালু ফর মানি’ হিসেবে দেখছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, পরিবারসহ আরামদায়ক পরিবেশে ভালো মানের খাবার উপভোগের সুযোগ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। সেই বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিদিন বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাড়ছে ভিড়। অফিসফেরত কর্মজীবী মানুষ, পরিবার ও তরুণদের উপস্থিতিতে পুরো হলজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। জনপ্রিয় আইটেমগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাকে আগেভাগে এসে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে হালিম, কাবাব, দই বড়া ও মিষ্টান্ন আইটেমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কেনাকাটার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বাজার পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রবেশপথে নিরাপত্তা তল্লাশি এবং ভেতরে সার্বক্ষণিক তদারকি টিম কাজ করছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ধুলাবালিমুক্ত পরিবেশ নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা থাকায় যাতায়াতও সহজ হয়েছে।
ব্যস্ত নগর জীবনে আরামদায়ক পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী ইফতার উপভোগের সুযোগ তৈরি করেছে এই বাজার। এক ছাদের নিচে নানা স্বাদের খাবার, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পরিবারবান্ধব ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে এটি অনেকের কাছে রমজানের নিয়মিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
রমজানজুড়ে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত চলা এই আয়োজন রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক ও নির্ভরযোগ্য ইফতার সংগ্রহের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





