জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এনবিআরের সহযোগিতা না পাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।
দুদক সূত্র জানায়, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনীম, সাবেক প্রথম সচিব (প্রশাসন–ভ্যাট ও কাস্টমস) মো. ঈদতাজুল ইসলামসহ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও নথিপত্র চেয়ে ১৭ এপ্রিল এনবিআরকে প্রথম চিঠি পাঠায় দুদক। তবে তথ্য না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ১৯ মে আবার চিঠি পাঠানো হয় এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর। ২১ মে এনবিআর চিঠিটি গ্রহণ করলেও এখনো কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি।
২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান শাখা (CID) এ তদন্ত শুরু করে। অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান ও উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
দুদকের চিঠিতে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, সামিট, বসুন্ধরা ও টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি, কর মওকুফ ও অর্থপাচার সংক্রান্ত সব নথিপত্র। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের প্রায় ৩ হাজার কোটি ও বেক্সিমকোর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভ্যাট মওকুফ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এনবিআর থেকে তথ্য না আসায় অনুসন্ধানের গতি থেমে আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দুদকের হালনাগাদ তথ্যমতে, এনবিআরের ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তা বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছেন। তারা সবাই এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকিতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া এনবিআরের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পৃথক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক, যাদের সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
দুদক বলছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ৩০৯ ধারার অজুহাতে এনবিআর তথ্য সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। কমিশনের মতে, আদালতের আদেশ ছাড়া এ ধরনের বাধা সৃষ্টি করা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গভীর অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





