পুরুষতান্ত্রিকতা ও নারীর চাহিদার গল্প নিয়ে নতুন সিনেমা

aap.jpg
মো: আল মামুন বিনোদন ডেস্ক

১১ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘আপ জ্যায়সা কোই’ সিনেমাটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মনোভাব এবং নারীর যৌন চাহিদাকে ট্যাবু ভাবার প্রবণতা নিয়ে আলোচনায়। বিবেক সোনি পরিচালিত এই রোমান্টিক ড্রামা সিনেমাটি দৃশ্যগত সৌন্দর্যে মুগ্ধ করলেও গল্পের বক্তব্য উপস্থাপনে কিছুটা খামতি রেখেছে।

একনজরে

  • সিনেমা: আপ জ্যায়সা কোই
  • পরিচালক: বিবেক সোনি
  • জনরা: রোমান্টিক ড্রামা
  • স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স
  • রানটাইম: ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট
  • অভিনয়ে: আর মাধবন, ফাতিমা সানা শেখ, মনীশ চৌধুরী, আয়েশা রাজা, নমিত দাস, অনন্যা চ্যাটার্জি

গল্পের সারাংশ
৪২ বছর বয়সী অবিবাহিত শ্রীরেণু ত্রিপাঠি ওরফে শ্রী (আর মাধবন) জামশেদপুরের একটি সরকারি স্কুলে সংস্কৃত শিক্ষক। প্রাচীনপন্থী এই শিক্ষক মধুবালার ভক্ত এবং বইয়ের ভাঁজে ফুল রাখেন। তাঁর বন্ধু সুমিত (নমিত দাস) তাঁকে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এর মাধ্যমে শ্রীর জীবনে আসে মধু বোস (ফাতিমা সানা শেখ), একজন শিক্ষিত, স্বাধীনচেতা কলকাতার ফ্রেঞ্চ শিক্ষিকা। প্রথম দেখাতেই মধুকে পছন্দ করেন শ্রী, এবং দুজনের মধ্যে প্রেম গড়ে ওঠে। বিয়ের কথাও পাকা হয়। কিন্তু মধুর একটি আচরণ শ্রীর পুরুষতান্ত্রিক সংস্কারে ধাক্কা দেয়, যার ফলে বিয়ে ভেঙে যায়। মধু কি শ্রীকে বোঝাতে পারবেন, নাকি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকেই হার মানতে হবে?

সমালোচনা
সিনেমাটির প্রোডাকশন, শিল্প নির্দেশনা, এবং দেবজিৎ রায়ের সিনেমাটোগ্রাফি দৃশ্যত আকর্ষণীয়। কফি হাউস, হাওড়া ব্রিজ, বৃষ্টিতে গঙ্গার পাড়, কিংবা সেতার-পিয়ানোর সুর মুগ্ধ করে। তবে পুরুষতান্ত্রিকতার বক্তব্যকে অতি-সরলভাবে উপস্থাপন করায় দর্শক কিছুটা বিরক্ত হতে পারেন। শ্রীর ভাই ভানু ত্রিপাঠি (মনীশ চৌধুরী) পুরুষতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে দেখানো হলেও চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য নয়, যেন কেবল বক্তব্য বোঝানোর জন্যই তৈরি। তাঁর “ওটিটি সবার চিন্তাচেতনা বিগড়ে দিয়েছে” সংলাপটি হাস্যকর।

কলকাতার বাঙালি সমাজকে অতি-প্রগতিশীল ও মাছপ্রিয় হিসেবে চিত্রিত করা ক্লিশেময়। বাঙালি সমাজের স্বাধীনচেতা নারী ও পুরুষদের অকুণ্ঠ সমর্থনের চিত্র অতিরঞ্জিত। গল্পের প্রথমার্ধ জমলেও দ্বিতীয়ার্ধে শ্রী-মধুর প্রেম ও শ্রীর হঠাৎ মানসিক পরিবর্তন বোধগম্য নয়। শ্রীর খাঁচাবন্দী ইঁদুরের রূপক ব্যবহার শুরুতে দেখানো হলেও শেষে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

অভিনয় ও সঙ্গীত
আর মাধবন শ্রীর চরিত্রে দুর্দান্ত, তাঁর শান্ত, লজ্জাশীল ভাব ফুটে উঠেছে। ফাতিমা সানা শেখ মধু হিসেবে সমান জ্বলজ্বলে, বিশেষত নীল শাড়িতে কফি হাউসের দৃশ্যে। তাঁদের রসায়ন আকর্ষণীয়। মনীশ চৌধুরী, আয়েশা রাজা, ও নমিত দাস ঠিকঠাক, তবে শ্রিয়াম ভাগনানির নিশা চরিত্র গল্পে গভীরতা যোগ করেছে। জাস্টিন প্রভাকরণ ও রোচাক কোহলির সুরে মোহিত চৌহানের ‘যাব তু সাজন’ সহ গানগুলো মনোরম।

মূল্যায়ন
‘আপ জ্যায়সা কোই’ পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে নারীর চাহিদাকে তুলে ধরে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, তবে অতি-সরল উপস্থাপনা ও দ্বিতীয়ার্ধের দুর্বল গল্প এর প্রভাব কমিয়েছে। ‘বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া’, ‘ভিকি ডোনর’, ‘রকি অউর রানী কী প্রেম কাহানি’র মতো হিন্দি রোমান্টিক কমেডির ছায়া এতে স্পষ্ট। সিনেমাটি ১৯৭০-এর ‘কুরবানি’র জনপ্রিয় গান থেকে নাম নিলেও দীর্ঘমেয়াদে দর্শকের মনে থাকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

Leave a Reply

scroll to top